Header Border

ঢাকা, শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল) ১৬.৭২°সে
শিরোনাম
অধিকারবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্নের সন্ধ্যা: ‘গিফট এ ডিনার’ আয়োজন করল ফ্যাশন ফর লাইফ চট্টগ্রামের কাস্টমস কর্মকর্তা মইনুলের স্বর্ণালংকার সহ দামি গাড়ি ডুবির ঘটনা ; এলাকায় চাঞ্চল্য ৭১ টিভির স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পেলেন সিদ্দিক আল-মামুন বায়েজিদে যুবকের খণ্ডবিখণ্ড দেহাংশ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে অভিযান সীতাকুণ্ডে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড: ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা চট্টগ্রাম–৯ আসনের ভোটারদের রাজধানীর ভোটারদের মর্যাদায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার মীর নাছিরের লক্ষ্মীপুরে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের উদ্যোগে সাংবাদিকদের শীতবস্ত্র বিতরণ ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ চ্যানেল এস-এর আবাসিক সম্পাদক মনোনীত হলেন মুনীর চৌধুরী চট্টগ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৫ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ধারালো অস্ত্র

রামগতি-কমলনগরের দুঃখ ভুলুয়া নদী

আমানত উল্যাহ:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নদীতে পড়েছে ভুলুয়া নদী। ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর গড় প্রস্থ ছিল ৫০০ মিটার। দখল, অবৈধ বাঁধ নির্মাণ আর পলি জমে নদীর এখন গড় প্রস্থ দাঁড়িয়েছে ৮৫ মিটারে। নদীটি খনন না হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে হেঁটেই পার হওয়া যায়। আর বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ থাকে পানিবন্দি। তাই রামগতি-কমলনগরের মানুষের দুঃখ এই ভুলুয়া নদী।

স্থানীয়রা জানায়, অবৈধ দখল আর প্রভাবশালীদের বাঁধ নির্মাণের কারণে ভুলুয়া নদীতে এখন আর জোয়ার-ভাটা নেই। এতে করে ইরি-বোরো আবাদ করতে পারছেন না কৃষকেরা। আবার বাঁধের কারণে বর্ষায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে দুই মৌসুমেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত এক মাসের টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে সৃষ্ট বন্যায় রামগতি-কমলনগরের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা, তোরাবগন্জ ও রামগতি উপজেলার চরগাজী, চররমিজ, চরআলগী, চরপোড়াগাছা ও চরবাদাম ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রাম জলমগ্ন। এর মধ্যে চরকাদিরা, চরপোড়াগাছা ও চরবাদাম ইউনিয়ন পুরোটাই পানির নিচে।

আর কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা, চরলরেন্স, তোরাবগঞ্জ ও হাজিরহাট ইউনিয়নের অন্তত ১২টি গ্রাম পানিতে ডুবে রয়েছে। মাঠের মধ্যে যত দূর চোখ যায় কেবল পানি আর পানি। এসব গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বেড়িবাঁধের ঢালে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববর্তী এলাকার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। দুই উপজেলার আমন বীজতলা, রোপা আমনক্ষেত, পুকুর, ডোবা-নালা, পথঘাট, রাস্তাসহ সবকিছুই পানিতে তলিয়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভুলুয়া নদী দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ, অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, মাছের ঘের তৈরি, নদীর দুই পাশে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, নদীসংলগ্ন খাল দখল, খালে পানিপ্রবাহ বন্ধকারী জাল বসানো, পোল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করাসহ বেশ কয়েকটি কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া রামগতি, কমলনগর ও নোয়াখালী সদর উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহমান ভুলুয়া নদীর মুখে স্লুইসগেট (রামগতির হাজীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন) দখল হয়ে আছে। এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অফিস ও দপ্তরে স্মারকলিপি দিলেও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় সময় কাটছাঁট করে চলছে দুই উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।জোয়ার ও বৃষ্টির পানির স্রোতে ধসে পড়েছে রামগতি-কমলনগরের ৬০ শতাংশ গ্রামীণ সড়ক।

লক্ষ্মীপুর,রামগতি ও নোয়াখালীর সাথে বয়ারচরবাসীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।গত এক সাপ্তাহ ধরে চলা টানা বৃষ্টি, মেঘনা ও ভূলুয়া নদীর জোয়ারের তোড়ে সড়কের দুইটি অংশ ভেঙে পড়ে। আলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়কের চরআলগী ইউনিয়নের নবিয়ল মোড়ের একটি সেতুর দুপাশ ভেঙে যায়। এ ছাড়া বিবিরহাট-রামগতি বাজার সড়কে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে আরও তিনটি সেতু। সব মিলিয়ে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মানুষের দুঃখ এখন এ ভুলুয়া নদী। নদীটি খনন ও দখলমুক্তের উদ্যোগ নিলে এ অঞ্চলের কৃষিকাজে আমূল পরিবর্তন আসবে। ভাগ্য বদলাবে কৃষকের। বর্ষায় আর এমন জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে জানায় দুই উপজেলার বাসিন্দারা।

কমলনগরের চরকাদিরা গ্রামের কৃষক সফিক উল্লাহ ও হোসেন আহমেদ বলেন, একসময় নদীটির বুকে বড় নৌকা চলাচল করত। জাল ফেলে মাছ ধরে চাহিদা মেটানোসহ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত স্থানীয়রা। এখন প্রভাবশালীরা বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, স্থাপনা নির্মাণ ও মাছের বড় বড় প্রজেক্ট করে বিভিন্নভাবে দখল করে রেখেছে। এখন আর নদীতে জোয়ার-ভাটা নেই। আবার বর্ষার মৌসুমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।

রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদার বলেন,রামগতি-কমলনগরের মুল সমস্যা ভূলুয়া নদী দখলমুক্ত করে খনন করা। এই কাজটি করতে পারলে এ অঞ্চলের মুল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুফতী নুরুল্লাহ খালিদ বলেন,জনগনকে নিয়ে বহু আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছি। ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। সরকারি দপ্তর থেকে তেমন সাড়া না পেয়ে এখন নিজ উদ্যোগে ভেকু মিশিন এনে বাঁধগুলো কেটে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন,ভূলুয়া নদী খননের জন্য বিশাল বরাদ্দের প্রয়োজন। আমরা মন্ত্রণালয়ে অনেকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। নদীতে থাকা অবৈধ বাঁধগুলো কেটে দিতে আমরা চেষ্টা করছি।

কমলনগরের ইউএনও মোঃ রাহাত-উজ-জামান বলেন, অবৈধ দখলদার যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুলুয়া নদী পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ডেলিকেটেড প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার বলেও জানান প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

রামগতির ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের মুল সমস্যা ভূলুয়া নদী। এই নদী খননের জন্য আমি পাউবোর সাথে অনেকবার যোগাযোগ করছি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

অধিকারবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্নের সন্ধ্যা: ‘গিফট এ ডিনার’ আয়োজন করল ফ্যাশন ফর লাইফ
চট্টগ্রামের কাস্টমস কর্মকর্তা মইনুলের স্বর্ণালংকার সহ দামি গাড়ি ডুবির ঘটনা ; এলাকায় চাঞ্চল্য
৭১ টিভির স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পেলেন সিদ্দিক আল-মামুন
বায়েজিদে যুবকের খণ্ডবিখণ্ড দেহাংশ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে অভিযান
সীতাকুণ্ডে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড: ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ

আরও খবর