স্টাফ রিপোর্টার:
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল ২০০৩ সালে। তখন কমলনগর উপজেলা প্রতিষ্ঠা হয়নি। দীর্ঘ ২২ বছর পর আগামীকাল (২২ আগস্ট) শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। একই সাথে ২৪ আগস্ট হবে কমলনগর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন। দীর্ঘবছর পর হতে যাওয়া এই সম্মেলনে রামগতি ও কমলনগরের নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে তৃণমূল থেকে শুরু করে উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এতদিন নানা সীমাবদ্ধতায় সম্মেলন করতে না পারলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বেশ জাঁকজমকে সম্মেলনের আয়োজন করেছে দলটি। এ উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির তৃনমুল নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় আনন্দ উল্লাস। এতে বেশ উচ্ছাসিত নেতাকর্মীরা। মঞ্চ তৈরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। গোটা উপজেলায় সাজ সাজ রব দেখা গেছে।
আগামীকাল শুক্রবার ২২ আগস্ট আলোচিত এ সম্মেলন হবে আলেকজান্ডার সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান সহ কেন্দ্রীয় ও লক্ষ্মীপুর জেলা নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৩ সালে রামগতি উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর এতো বড় পরিসরে আর সম্মেলন করতে পারেনি দলটি। ২০১৬ সালে ঘরোয়া পরিবেশে সম্মেলন করে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে। তখন সাবেক এমপি এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে আহবায়ক ও ডাক্তার জামাল উদ্দীনকে সদস্য সচিব করা হয়। ২০২২ সালে ওই কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর ডাক্তার জামাল উদ্দীনকে আহবায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে রামগতি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলে। বর্তমানে ওই আহবায়ক কমিটি দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে উপজেলা বিএনপি। আগামীকালেকের সম্মেলনে পুর্নাঙ্গ নতুন কমিটি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন দলটির তিনজন নেতা।
এদিকে ২০০৬ সালে রামগতি থেকে পৃথক হওয়া কমলনগর উপজেলায় এ প্রথম বড় পরিসরে সম্মেলন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২০০৬ সালে কমলনগর উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর বিএনপির আহবায়ক হন মাওলানা মাহে আলম ও সদস্য সচিব নুরুল হুদা চৌধুরী। দীর্ঘ বছর তাদের নেতৃত্বে বিএনপি পরিচালিত হয়ে ২০১৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ঘরোয়া পরিবেশে কমলনগর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ভোটের মাধ্যমে। ওই সম্মেলনে জামাল উদ্দীন তালুকদার আহবায়ক ও নুরুল হুদা চৌধুরী সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। এরপর ২০২২ সালে গোলাম কাদেরকে আহবায়ক, এম.দিদার হোসেন যুগ্ম আহবায়ক ও নুরুল হুদা চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে কমলনগর উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করে। সব মিলিয়ে ২২ বছর পর ২৪ আগস্ট হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির সম্মেলন।
২২ বছর পর রামগতি ও কমলনগরে বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘুম নেই। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মঞ্চ তৈরী সহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতাকর্মীরা। এই সম্মেলনকে ঘিরে ১৭ বছরের হামলা, মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণে জর্জরিত নেতাকর্মীরা ফিরে পেয়েছেন প্রাণচাঞ্চল্য। কর্মীরাও মুখিয়ে আছেন নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে। তবে সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক পদে কোন প্রার্থী না থাকায় কিছুটা হতাশ নেতাকর্মীরা। এতে ধারনা করা হচ্ছে সম্মেলন দুটিতে দুই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক সহ অন্য পদগুলোতে নাম ঘোষণা হবে সিলেকশনে। তাও তৃনমুলের মতামতের ভিত্তিতেই হবে বলে জানিয়েছেন দলটির একটি সুত্র।
নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের দুর্দিনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তারা যেন সঠিক মূল্যায়ন পান। এছাড়া সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন করে দলকে পুনরুজ্জীবিত ও সুসংগঠিত করে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখবে এমন নেতৃত্ব চান তারা।
রামগতি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সিরাজ উদ্দিন বলেন,দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। নেতাকর্মীদের সাথে থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছি। সম্মেলন উপলক্ষে বিএনপির তৃনমুলে চলছে আনন্দ উল্লাস। একটি সফল সম্মেলন উপহার দিতে চাই।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডাক্তার জামাল উদ্দীন বলেন, আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে প্রতিকুল পরিবেশেও দল পরিচালনা করেছি। হামলা-মামলা উপেক্ষা করে সব সময় দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আশাকরি হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন।
কমলনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, একটি সফল সম্মেলন উপহার দিতে কাজ করে যাচ্ছি। হামলা-মামলা ও নির্যাতন উপেক্ষা করে ১৭ বছর দলকে সুসংগঠিত রেখেছি।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম দিদার হোসেন বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে এখন বিএনপির নেতৃত্বে আছি। স্বৈরাচার সরকারের হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম ভোগ করেছি। ঢাকা জাতীয় নেতাদের সাথে একাধিকবার কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলাম। তবুও দলের হাল ছেড়ে দেইনি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। আশাকরি দলের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি দেখবেন।
কমলনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম কাদের বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। তাই প্রস্তুতিও বড় হবে। এবার বড় পরিসরে সম্মেলন হচ্ছে। সম্মেলনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী উপজেলা কমিটি হবে।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ২২ আগস্ট রামগতি ও ২৪ আগস্ট কমলনগর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন হবে। সম্মেলনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত হবে। দলের জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের তদারকিতে সম্মেলন ও কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব কিছু লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি দেখছেন।

১৫.৬৮°সে
