চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মো. ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে র্যাবের এক উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন—জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। এদের মধ্যে দুজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম পিপিএম (সেবা) বলেন, “গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে র্যাব-৭ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, সীতাকুণ্ড মডেল থানার অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াছিন ওরফে দস্যু ইয়াছিন তার সহযোগীদের নিয়ে জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর সমাজ এলাকায় অবস্থান করছে।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্দেশনা অনুযায়ী বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে একটি অভিযানিক দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই এলাকার একটি কাঠের দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছে র্যাব সদস্যরা কালা ইয়াছিন ও নুরুল হক ভান্ডারিকে আটক করেন।
এ সময় পলাতক ইয়াছিনের নির্দেশে অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০–২০০ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা ডিএডি মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াসহ কয়েকজন র্যাব সদস্যকে মারধর করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় এক কনস্টেবল পালিয়ে এলেও তার সঙ্গে থাকা সরকারি অস্ত্র, গুলি ও র্যাব জ্যাকেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অপর তিনজন র্যাব সদস্যকে জঙ্গল সলিমপুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় অভিযানে ব্যবহৃত একটি সরকারি মাইক্রোবাসও ভাঙচুর করা হয়।
পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অতিরিক্ত র্যাব সদস্য, সেনাবাহিনীর টহল দল ও সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের সহায়তায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার একটি সেমিপাকা ভবন থেকে অপহৃত র্যাব সদস্যদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
আহতদের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিএডি মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন ও প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। সরকারি খাস জমির নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিয়মিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের দাবি, ইয়াসিন ও রুকন নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি এই সহিংসতার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ইয়াসিন এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় সক্রিয়। অপরদিকে রুকন উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

১৬.৭২°সে
