Header Border

ঢাকা, শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল) ১৫.৬৮°সে
শিরোনাম
অধিকারবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্নের সন্ধ্যা: ‘গিফট এ ডিনার’ আয়োজন করল ফ্যাশন ফর লাইফ চট্টগ্রামের কাস্টমস কর্মকর্তা মইনুলের স্বর্ণালংকার সহ দামি গাড়ি ডুবির ঘটনা ; এলাকায় চাঞ্চল্য ৭১ টিভির স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পেলেন সিদ্দিক আল-মামুন বায়েজিদে যুবকের খণ্ডবিখণ্ড দেহাংশ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে অভিযান সীতাকুণ্ডে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড: ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা চট্টগ্রাম–৯ আসনের ভোটারদের রাজধানীর ভোটারদের মর্যাদায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার মীর নাছিরের লক্ষ্মীপুরে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের উদ্যোগে সাংবাদিকদের শীতবস্ত্র বিতরণ ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ চ্যানেল এস-এর আবাসিক সম্পাদক মনোনীত হলেন মুনীর চৌধুরী চট্টগ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৫ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ধারালো অস্ত্র

ভোটের রাজনীতিতে ম্লান হচ্ছে খেলাফতের চেতনা!

মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ:
বিশ্ব মুসলিম সমাজ আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। ইসলামের মূল চেতনা, ঐক্য ও নেতৃত্বের আদর্শ — যাকে “খেলাফত” বলা হয় — তা আজ প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে ভোটের রাজনীতির কোলাহলে। প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা, পুঁজিবাদী অর্থনীতি, ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া বিচারব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির বিষাক্ত ছোবল আমাদের মানসিক ও আদর্শিক দিককে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে।

মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নেতৃত্ব আজ রাজতন্ত্রের ছোঁয়ায় আচ্ছন্ন, উম্মাহ বিভক্ত অসংখ্য মতানৈক্যে। শত বছর আগে বিলুপ্ত ওসমানী খেলাফতের (৩ মার্চ ১৯২৪) পর থেকে মুসলমানদের জন্য একক নেতৃত্বের শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি।
বিশ্বের কুফরি শক্তিগুলো পারস্পরিক সৌহার্দ্যে ঐক্যবদ্ধ, অথচ মুসলিম জাতিগুলো পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত। নিজেদের রেষারেষি, দোষারোপ ও বিভক্ত রাজনীতির কারণে আমরা বারবার পরাজিত হচ্ছি।

আজকের মুসলিম উম্মাহর নেই কোনো স্বকীয়, সক্রিয় ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। নেই এমন কোনো পরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা যা ইসলামী মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিপরীতে ইসলামি সংস্কৃতি জাগরণের কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেই। সবাই যেন এক অচেতন স্রোতের মতো পশ্চিমা ধ্যান-ধারণায় গা ভাসিয়ে চলেছি।

🔹 ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

ভারত উপমহাদেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এই বাস্তবতাকে আরও জটিল করেছে। ভারত-পাকিস্তানের চিরবৈরিতা, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যা, সাম্প্রতিক আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা — এসব ঘটনাই প্রমাণ করে, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এখনো বিশ্বাসঘাতকতার বেড়াজালে বন্দি। তিন দিক থেকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র দ্বারা পরিবেষ্টিত বাংলাদেশ আজ কৌশলগতভাবে এক সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বস্তুবাদী রাজনীতির বিপরীতে একটি শক্তিশালী, আদর্শিক ইসলামি রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান সময়ের দাবি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ নয়; বরং এটি হতে পারে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার একটি উপায়। তবে এটিও স্মরণ রাখতে হবে — ভোটের জয় মানেই ইসলামের জয় নয়।

🔹 ইসলামি রাজনীতির করণীয়

ইসলামি দলগুলোর উচিত, তারা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ইসলামী বিজয়ের চূড়ান্ত রূপ মনে না করে। খেলাফতব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে মানব-রচিত গণতন্ত্রকে যেন কখনোই গ্রহণ না করে। প্রয়োজনের সময় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু সেই অংশগ্রহণ যেন কখনোই খেলাফতের চেতনা ও আদর্শকে ম্লান না করে।

ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর করণীয় হতে পারে—

1️⃣ খেলাফতের স্বপ্ন রোপণ: দলের প্রতিটি কর্মীর হৃদয়ে খেলাফতের ধারণা গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত করা।
2️⃣ চিন্তাজাগরণ: সভা, সেমিনার, রাজনৈতিক সমাবেশে খেলাফতের প্রয়োজনীয়তা ও ইসলামী শাসনের সুফল তুলে ধরা।
3️⃣ শিক্ষা সংস্কার: ইসলামি ভাবধারায় গড়ে তোলা আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
4️⃣ সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ: পশ্চিমা সংস্কৃতির বিপরীতে ইসলামী সাহিত্য, শিল্প, মিডিয়া ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো।
5️⃣ ঐক্য ও নেতৃত্ব: মতভেদ নয়, আলোচনার মাধ্যমে উম্মাহর ঐক্য ফিরিয়ে আনা ও নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করা।

উপসংহার:
খেলাফতের চেতনা কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি ইসলামী সভ্যতার প্রাণশক্তি। ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে পারে এক ধরনের কৌশল, কিন্তু আদর্শ নয়।
আমাদের লক্ষ্য হতে হবে ইসলামী খেলাফতের প্রতিষ্ঠা — যেখানে ন্যায়, শিক্ষা, নীতি ও আদর্শ হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি।

ভোটের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করব, কিন্তু কখনোই খেলাফতের চেতনা বিসর্জন দেব না।
কারণ খেলাফতই মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, মর্যাদা ও মুক্তির চাবিকাঠি।

কলাম লেখক:
মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ
পরিদর্শক, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

৭১ টিভির স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পেলেন সিদ্দিক আল-মামুন

আরও খবর