আমানত উল্যাহ, ইনফো টাইমস
মেঘনার তীব্র জোয়ারের আঘাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ১২ টি পয়েন্ট ধসে পড়েছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সারাদিন ব্যাপী চলা তীব্র জোয়ারের আঘাতে তীর রক্ষা বাঁধের রামগতির অংশে ১০ ও কমলনগর অংশের ২ টি স্থানে ধস নেমে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ফের আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে মেঘনার তীরের বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামগতি উপজেলার বড়খেরী ও চরগাজী ইউনিয়নের রামগতি মাছঘাট, বড়খেরী ইউনিয়নের মালি বাড়ী এলাকা,উছখালি ও রামগতি ওয়াপদা অফিস সংলগ্ন সহ তীর রক্ষা বাঁধের ১০ টি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জোয়ারের পানির আঘাতে বাঁধ ভেঙে ভিতর পানি ঠুকে পড়ার উপক্রম দেখা দেয়। একই অবস্থা কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট ও লুধুয়া বাজার এলাকায়ও। এ অবস্থা চলতে থাকলে যেকোনো সময় বাঁধটি ধসে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে। বাঁধের কাজ শেষ হতে না হতেই পানি ঠুকে ভেঙে গেছে বেশ কিছু অংশ। বাঁধ ভেঙে ব্লক নদীতে পড়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ যথাযথভাবে ব্লক স্থাপন এবং জিও ব্যাগ ডাম্পিং না করাসহ নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের কারণে লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধস নামার অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়রা নির্মাণ কাজের প্রথম থেকে তোলেন অনিয়মের অভিযোগ। বিশেষ করে পাউবো কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা, বেপরোয়া অনিয়ম দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য সহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজ। যে কারণে বর্ষা শুরু হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে বাঁধে কয়েকবার ধস নেমেছে। নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ব্লক ভেঙে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ৩৫ বছর ধরে মেঘনা নদীর ধারাবাহিক ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার প্রায় ২৪২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

লক্ষ্মীপুর পাউবো সূত্রে জানা গেছে,মেঘনা নদীর বড়খেরী, লুধুয়াবাজার এবং কাদিরপন্ডিতেরহাট বাজার তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প নামের ৩৩.২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি ২০২১ সালের ১ লা জুন পাস করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

২০২১ সালের ১৭ আগস্ট ই-জিপি টেন্ডার পোর্টাল এবং ১৮ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। টেন্ডার অনুসারে প্রায় শতাধিক লটের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ৪০০ মিটার কাজ শুর হয়। প্রায় ৪ বছরে মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে বলে দাবী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষের। বাকি ৬০ শতাংশ কাজ কবে শেষ হবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে কয়েকবার নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে পড়লে পাউবো কর্তৃপক্ষ মেরামত করে দেন।

মেঘনার তীরের বাসিন্দাদের দাবি ছিল: ঠিকাদারের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ না করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাঁধটি নির্মাণ করার। এজন্য বিভিন্ন সময়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্মারকলিপি পেশ করলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ কবির মোল্লা, আবুল কালাম আযাদ ও গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই বাঁধ ভেঙে পড়ার সম্পুর্ন দায়ভার নিতে হবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আঁতাত করে কমিশন বাণিজ্য করে। আর লক্কর ঝক্কর করে আমাদের তীর রক্ষা বাঁধ কাগজে কলমে দেখাচ্ছে। টেকসই বাঁধ হচ্ছেনা। নদীতে জোয়ার আসলেই বাঁধ ভেঙে যায়।

ইউপি সদস্য জমির উদ্দিন বলেন,৩ হাজার ১শ কোটি টাকার কাজ। কাজের অবস্থা ধীরগতি। একেবারেই নিম্নমানের হচ্ছে। বৃষ্টির পানি বা জোয়ারের পানি আসলে ব্লক ভেঙে পড়ে। আমরা টেকসই বাঁধ চাই।

পাউবো কমলনগর অঞ্চলে উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন,রামগতিতে কিছুটা সমস্যার খবর পেলেও কমলনগরে সে তুলনায় কম হয়েছে। তীব্র স্রুতে মাটি সরে গেছে। আমরা মেরামত করে দিবো।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন, যেসব স্থানে ধস পড়েছে সেগুলো মেরামত করা হবে। কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছেনা। দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা সাধ্যমতে চেষ্টা করছি বাঁধের কাজটি সম্পন্ন করতে। এক্ষেত্রে আপনাদের (সাংবাদিক) সার্বিক সহায়তা লাগবে।