অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের আসন সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু আলম শহীদ খান। তিনি মনে করেন, জামায়াত সরকার গঠন তো দূরে থাক, ১০টি আসনও পাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তার মতে, আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভালো ফল করার সম্ভাবনা বেশি। একই সঙ্গে, আওয়ামী লীগের কিছু স্বতন্ত্র অংশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টকশোতে শহীদ খান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে জামায়াতের সরকার গঠন তো দূরের কথা, ১০ সিট মানে ডাবল ডিজিট স্পর্শ করতে পারবে কি না এটা আমার সন্দেহ আছে।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, জামায়াতের শক্তিশালী সংগঠন আছে এবং তারা যদি জনগণের কাছে সঠিকভাবে যেতে পারে, তবে ভালো ফল করতেও পারে। কিন্তু একটি বড় বিরোধী দল হওয়ার জন্য যে সংখ্যক আসন প্রয়োজন, তা তারা পাবে বলে তিনি মনে করেন না।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির সম্ভাবনা উজ্জ্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লাঙল’ প্রতীকের কারণে তাদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উদাহরণ দেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জেলে থাকা অবস্থায়ও জাতীয় পার্টি ৩৯টি আসন জিতেছিল।
শহীদ খান মনে করেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আসনে আওয়ামী লীগ হেরেছিল। সেসব নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে যারা জয়ী হয়েছিলেন, সেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা অন্য কোনো দল, যেমন মাহমুদুর রহমানের পার্টি, এনসিপি বা এবি পার্টিতে যোগ দিতে পারেন।
শহীদ খান দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, “নির্বাচনটা ডিসেম্বরে হলেও হতে হবে। এখন ফেব্রুয়ারি ঠিক আছে। যদি উনি দুই মাস আগেও নির্বাচন করতে চান করে ফেলতে হবে।” তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বেকারত্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, বর্তমানে ২৮ লাখ মানুষ বেকার এবং ২৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দ্রুত একটি নির্বাচন প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।